অবশেষে জানা গেল যে কারনে মোদিকে প্রত্যাখ্যান করলেন ট্রাম্প

ইমান২৪.কম: রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক অস্ত্র কেনা ও ইরানের সঙ্গে তেল কেনার জের? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডেনাল্ড ট্রাম্প প্রজাতন্ত্র দিবসে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার ভারতের আমন্ত্রণ ফেরালেন। এর আগে ভারতে এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তবে এবার সেই পথে হাঁটলেন না ট্রাম্প। ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের না আসার সিদ্ধান্ত। এমনটাই খবর সংবাদমাধ্যমের। বলা হয়েছে দেশে বেশ কিছু অনুষ্ঠান রয়েছে ট্রাম্পের। আমন্ত্রণ না নিতে পারার জন্য দুঃখও প্রকাশ করা হয়েছে প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে । তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এনিয়ে কিছু বলা হয়নি। দিল্লিতে মার্কিন দূতাবাস থেকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে একমাত্র কথা বলবে হেয়াইট হাউস। উল্লেখ্য, গত এপ্রিল মাসে প্রজাতন্ত্র দিবসে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য ট্রাম্পকে আমন্ত্রণ জানায় ভারত।

সেই আমন্ত্রণ চিঠির প্রাপ্তির খবরও স্বীকার করা হয়েছিল হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে। তবে জানিয়ে দেয়া হয় সেপ্টেম্বর মাসে ভারত-মার্কিন টু প্লাস টু বৈঠকের পরই এনিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হাল আমলে সম্পর্ক খুব একটা ভালো যাচ্ছে না। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে তেল কেনা নিয়ে দুদেশের মধ্যে সম্পর্ক সংঘাতের আকার নিয়েছে। ওয়াশিংটন জানিয়ে দিয়েছে, ইরানের কাছ থেকে যেসব দেশ তেল কিনবে তাদের নিষেধাজ্ঞার কোপে পড়তে হবে। পাশাপাশি রাশিয়ার কাছ থেকে এস ৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী প্রযুক্তি কিনছে ভারত। এতেও সম্পর্ক খারাপ হয়েছে দুদেশের মধ্যে। কোনো কোনো মহল থেকে মনে করা হচ্ছে এই দুই কারণেই ভারতের আমন্ত্রণ ফেরাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

চূড়ান্ত যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে রাশিয়া রাশিয়ার সঙ্গে পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি এবং স্ক্যান্ডিনেভিয়ান অঞ্চলে মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সামরিক মহড়াকে কেন্দ্র কোরে, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের উস্কানির জবাব দিতে রুশ সামরিক বাহিনী প্রয়োজনে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত বলে জানিয়েছে রাশিয়া। এ অবস্থায় বিশ্বে নতুন করে অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা বিশ্লেষকদের। রাশিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় গত বৃহস্পতিবার বড় ধরনের সামরিক মহড়া শুরু করে ন্যাটো, যা চলবে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত। এতে অংশ নিচ্ছে জোটের দেশগুলোর ৫০ হাজারের বেশি সেনা।

মহড়ায় থাকছে ৬৫টি যুদ্ধজাহাজ, ১৫০টি যুদ্ধবিমান এবং দশ হাজার সাজোয়া যান। জল এবং স্থল পথে প্রতিপক্ষের হামলা মোকাবিলা এবং বিভিন্ন রণকৌশল প্রদর্শিত হচ্ছে মহড়ায়। ন্যাটো একে অনুশীলনের ক্ষেত্র বললেও, রাশিয়া এ মহড়াকে উস্কানি হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। মস্কোর অভিযোগ, ১৯৮৭ সালের ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি আইএনএফ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর, রাশিয়া বিরোধী মনোভাব থেকেই সীমান্তবর্তী এলাকায় ন্যাটো জোট যুদ্ধের মহড়া চালাচ্ছে। রাশিয়াও চূড়ান্ত যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। যুক্তরাষ্ট্র বাড়াবাড়ির মাত্রা অতিক্রম করলে, তার জবাব দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।

পরমাণু শক্তিধর দেশ দুটির মধ্যকার চরম উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন নেতা মিখাইল গর্ভাচেভ সতর্ক করে বলেছেন, রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে জড়ালে কোনো পক্ষই জয়ী হতে পারবে না। আইএনএফ চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র বেরিয়ে গেলে বিশ্বে নতুন কোরে অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হবে বলেও জানান তিনি

আরও পড়ুন: চট্টগ্রাম পৌঁছেই মাজার জিয়ারত করলেন ড. কামাল-ফখরুলের

ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের কাছে ক্ষমা চাইতে মাসুদা ভাট্টিকে লিগ্যাল নোটিশ

ফেসবুকে লাইক দিন