অনেক হাতাশার মাঝেও যে আশার আলো জ্বেলেছেন তরুণরা

ইমান২৪.কম: সম্প্রতি ভাস্কর্য ইস্যুতে অনেক হতাশার মাঝেও আশার আলো জ্বেলেছেন দেশের অনেক তরুণ নেতা। সরকার দলীয় অনেক নেতা ভাস্কর্য ইস্যুতে কুরআনের পক্ষে কথা বলে পদ ও ক্যারিয়ার হারানোর পাশপাশি নিয়েছেন জীবনের ঝুঁকি।

গণমাধ্যমে প্রকাশ, ভাস্কর্য ইস্যুতে কুরআনের পক্ষে যুক্তি দিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ার জেরে কবির হোসাইন নামে ছাত্রলীগের এক নেতাকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়। বহিস্কৃত কবির হোসাইন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কবি জসীম উদদীন হল শাখার ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

কবির হোসাইনকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড় শুরু হয়েছিল। ভাস্কর্য ইস্যুতে কুরআন-সুন্নাহের পক্ষে কথা বলায় কবির হোসাইনকে বহিষ্কার করায় ছাত্রলীগের ব্যাপক সমালোচনা করেছিলেন অনলাইন এক্টিভিস্টরা। অনেকেই শুভ কামনা জানিয়েছেন কবির হোসাইনকে।

কেউ কেউ লিখেছেন কোন অপরাধের কারণে কাউকে বহিস্কার করতে হলে তাকে প্রথমে সাময়িক বহিষ্কার করা হয় কিন্তু সত্য কথা বলায় অপরাধী বানিয়ে আপনাকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে, আপনি সত্যের জন্য দুনিয়ার সামান্য পদ হারালেও পরকালে আপনার জন্য ভালো কিছু অপেক্ষা করছে।

অনেকেই লিখেছেন দেশের আপামর জনতার ভালোবাসা আপনার সাথে, কবির হোসাইন। এ ঘটনার পরদিন একই কারণে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ছাত্রবৃত্তি বিষয়ক সম্পাদক খালেদ খান রবিনকে স্থায়ী বহিষ্কার করেছে সংগঠনটি। শনিবার সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের প্রোফাইলে খালেদ লিখেছিলেন, ‘‘বঙ্গবন্ধুর প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে, বঙ্গবন্ধুকে ভালোবেসে, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণের বিরোধীতা করছি। একটা কথা স্পষ্ট হওয়া উচিত যে, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণের বিরোধীতা করা আর বঙ্গবন্ধুর বিরোধীতা করা এক বিষয় না।

আর এই একটি কথার জন্য যদি ছাত্রলীগের জন্য দেওয়া আমার হাজার দিনের শ্রম এক নিমিষেই শেষ হয়ে যায়, তাহলে… আলহামদুলিল্লাহ।’’ এদিকে আরেক নওমুসলিম তার ফেসবুকে ভাস্কর্য নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন যা পড়ে যে কোনো মুসলমানেরই লজ্জায় মাথা নত হয়ে আসার কথা।

তিনি লিখেছেন, ‘মুখ খুলতে বাধ্য হলাম। যেই মূর্তি-ভাস্কর্য বাদ দিয়ে হিন্দু থেকে ইসলামে দাখিল হলাম, আজ সেই মুসলিমই কুরআন হাদিসের বিপক্ষে।’ ঈমান আমলে শত ত্রুটি সত্বেও সাধারণ জনগণের ভেতরে ঈমানের যে স্ফুলিঙ্গ ছাইচাপা পড়ে আছে তা অনেক হতাশার মাঝেও আশার সঞ্চার করে।

তাদের এ অভ্যিক্তি এ কথার প্রমাণ বহন করে, তাদের মাঝে যদি দাওয়াতী ও দ্বীনী মেহনত করা হয় তাহলে দ্বীনের খেদমতের জন্য তারা আরো বেশী অগ্রসর হতে পারবেন। পাশাপাশি এথেকে একথাও স্পষ্ট হয়ে গেল যে, আলেমদের কোনো বিষয়কে নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে ধীরশান্তভাবে বোঝাতে থাকাটা মানুষের জন্য উপকারী। এতে একশ্রেণীর মানুষের উপকার হয়। যারা বিবেকবান তারা চিন্তা করেন। সঠিক বিষয়টি বুঝার চেষ্টা করেন এবং ফিরে আসেন।

ফেসবুকে লাইক দিন