সিনহা হত্যা: ওসি প্রদীপসহ ৩ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে

মেজর (অব) সিনহা মোঃ রাশেদ হত্যা মামলায় কারাগারে থাকা ৩ আসামি ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলী ও এসআই নন্দ দুলালকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি।

আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে কারাগারে থাকা ৩ আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন তারা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজারের জেল সুপার মো. মোকাম্মেল হোসেন। এছাড়া মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী সাহেদুল ইসলাম সিফাত ও শিপ্রা দেবনাথের জবানবন্দি দণ্ডবিধির ১৬৪ ধারায় রেকর্ড করা হবে।

র‌্যাবের কাছে দেয়া তাদের বক্তব্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্তকাজ চলছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের। এদিকে যথাযথ অনুমোদন নিয়েই কক্সবাজারে ‘ট্রাভেল ডকুমেন্টারি’ তৈরির কাজ করছিলেন পুলিশের গুলিতে নিহত অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানসহ তার সহযোগীরা।

হত্যাকাণ্ডের পর সিনহার সহকর্মী সিফাত এবং শিপ্রার কাছ থেকে পুলিশ যে মাদক ও গাঁজা উদ্ধার দেখিয়েছে, সেগুলো প্রকৃত অর্থে তাদের কাছে থাকার কোনো ভিত্তি এখনও পাননি তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। সিফাত ও শিপ্রা বলছেন, তাদের কাছে কোনো মদ বা গাঁজা ছিল না।

এদিকে, তদন্ত টিমে রয়েছেন কমিটির প্রধান চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মিজানুর রহমান, সদস্য চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. জাকির হোসেন, কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহা. শাজাহান আলি ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রতিনিধি সদস্য লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাজ্জাদ।

তারা কারান্তরীণ ৩ আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে র‌্যাবের ৭ দিনের রিমান্ডে থাকা বাকি ৭ আসামিকেও জিজ্ঞাসাবাদ করবেন বলে জানা গেছে। রিমান্ডে থাকা ৭ আসামি হলেন, উপপরিদর্শক (এসআই) লিটন, কনস্টেবল সাফানুর করিম,

কামাল হোসেন ও আবদুল্লাহ আল মামুন এবং টেকনাফ থানায় পুলিশের করা মামলার ৩ সাক্ষী মো. নুরুল আমিন, নিজাম উদ্দীন ও মোহাম্মদ আয়াস। আদালতের নির্দেশে গত শুক্রবার তাদেরকে রিমান্ডে নেয় র‌্যাব।

প্রসঙ্গত, গত ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের মারিশবুনিয়া পাহাড়ে ভিডিওচিত্র ধারণ করে মেরিন ড্রাইভ দিয়ে কক্সবাজারের হিমছড়ি এলাকার নীলিমা রিসোর্টে ফেরার পথে শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন (অব.) সেনা কর্মকর্তা সিনহা মো. রাশেদ খান।

ফেসবুকে লাইক দিন